আগামী সপ্তাহে ভারতের ইউনিয়নগুলি দুই দিনের "সাধারণ ধর্মঘট" পালন করবে

By দীপাল জয়াশেখেরা
৫ জানুয়ারী ২০১৯

হিন্দু আধিপত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন সরকার বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যে "সংস্কার" করছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও কাজ তৈরী করার পদক্ষেপ নেবার দাবীতে আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার (৮ ও ৯ জানুয়ারি) হাজার হাজার শ্রমিক সারা ভারত ব্যাপী দুই দিনের ধর্মঘটে সামিল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এই সরকার গত সাড়ে চার বছরে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াকে উস্কানি দিয়েছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে ভারতের সামরিক-কৌশলগত আঁতাত বৃদ্ধি করেছে এবং ভারতকে বিশ্ব পুঁজিবাদের সস্তা শ্রমের আঁতুড়ঘর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য শাসক শ্রেণীর কাজকে আরও তীব্র করেছে। এই কাজ করতে তারা ঠিকা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে, সাধারণ কাজ ধ্বংস করছে এবং পরিবেশ বিধি মানছে না; সরকারি সংস্থাগুলি এবং অন্যান্য সরকার অধিকৃত ব্যবসাগুলিকে দ্রুত বিক্রি করছে; শ্রমিকদের ন্যূনতম যে সুবিধা প্রদান করা হয়, যেমন তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ড, তা কমিয়ে দিচ্ছে; এবং সরকারের আর্থিক সংকট শ্রমিক শ্রেণীর কাঁধে চাপাতে সামাজিক খরচ কমাচ্ছে এবং কর দানের নিয়মে বদল করছে। অন্যদিকে বৃহৎ ব্যবসাগুলি এবং ধনীদের জন্য কর প্রবল ভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

শ্রমিক শ্রেণীর নানান স্তর থেকে বহু শ্রমিক, যেমন বন্দরশ্রমিক, কয়লাখনির শ্রমিক, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীবৃন্দ, ব্যাঙ্ক কর্মীরা এবং কিছু শহর ও শহরতলীতে অটোরিক্সাচালক ও বিড়ি প্রস্তুতকারী শ্রমিকরা জানুয়ারি ৮ ও ৯ তারিখের প্রতিবাদ ধর্মঘটে সামিল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু আগামী সপ্তাহের এই "সাধারণ ধর্মঘটে" যে শ্রমিক ও যুবরা অংশগ্রহণ করছে তাদের আকাঙ্খা ও স্বার্থের সঙ্গে এই ধর্মঘট যে রাজনৈতিক দল বা ট্রেড ইউনিয়নগুলি ডেকেছে বা সমর্থন করছে, তাদের মন্দ ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক লক্ষ্যের মধ্যে মৌলিক বৈপরিত্য আছে। এই ট্রেড ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দলগুলি ঘৃণ্য বিজেপি সরকার ও ভারতীয় বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর স্বাধীন রাজনৈতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নয়, বরং তাকে দমন করতে এই ধর্মঘটকে সমর্থন করছে।

গত সেপ্টেম্বরে "শ্রমিকদের জাতীয় সম্মেলনে" ভারতের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি এবং একমাত্র বিজেপি-র সমর্থক ভারতীয় মজদুর সংঘ (বি-এম-এস) এই ডাকে সাড়া দেয়নি। সেই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত অসংখ্য পৃথক পৃথক ইউনিয়ন এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু এই প্রতিরোধ ধর্মঘটের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী, যা ভারতীয় বুর্জোয়াদের 'জন-মুখী নীতি' গ্রহণ করতে বলে, তার ডাক দিয়েছে প্রধান স্তালীনপন্থী সাংসদীয় দলগুলি, যেমন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), তার চেয়ে ছোট কিন্তু পুরোনো দল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সি-পি-আই) এবং তাদের ইউনিয়নগুলি, যথাক্রমে সেন্টার অফ্ ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস্ (সি-আই-টি-ইউ বা সিটু) এবং অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (এ-আই-টি-ইউ-সি)।

বহু বছর ধরে স্তালীনপন্থীরা ভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে অংশগ্রহণ করেছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তারা পর পর একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। এই সরকারগুলির অধিকাংশেরই নেতৃত্বে ছিল প্রথাগতভাবে ভারতীয় বুর্জোয়াদের পছন্দের শাসকদল কংগ্রেস, যারা নয়া উদারনৈতিক নীতি প্রনয়ণ করেছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিকট সম্পর্ক রেখে চলেছে। যে যে রাজ্যগুলিতে স্তালীনপন্থীরা সরকার গড়েছিল, যেমন পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও ত্রিপুরা, সেখানে তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নীতি প্রনয়ণ করেছে এবং সমাজতন্ত্রকে খারিজ করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বহুদিনের মুখ্যমন্ত্রী, কমিউনিস্ট পার্টি অফ্ ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট)-এর জ্যোতি বসুর ভাষায় সমাজতন্ত্র হল "বহু দূরের বিষয়"।

আগামী সপ্তাহের ধর্মঘটটি স্তালীনপন্থীদের জন্য শ্রমিক শ্রেণী ও গ্রামের গরীব মানুষের মধ্যে বেড়ে চলা সামাজিক বিরোধ সামাল দেওয়ার এক রাজনৈতিক রণকৌশল। এর মাধ্যমে তারা এই বিরোধকে পিছনে ঠেলতে চাইছে এবং সামনে আনতে চাইছে বুর্জোয়াদের কিছু অংশের দাবিকে যারা এপ্রিল-মে-র সাধারণ নির্বাচনে একটি বিকল্প দক্ষিণপন্থী সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে চায়।

গত তিন দশক ধরে তারা যা করে এসেছে, এখনও তারা বিজেপি ও তার হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থী মিত্রদের অপরাধগুলিকে দেখাচ্ছে, এবং ভারতীয় পুঁজিবাদকে অভিযুক্ত করছে না, যাতে শ্রমিক শ্রেণী শাসক শ্রেণীর প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ভয়াবহতা সম্বন্ধে অবহিত না হয়; এবং শ্রমিক শ্রেণীকে নিয়মিত ভাবে কংগ্রেস এবং অন্যান্য প্রাদেশিক এবং জাতি-ভিত্তিক দলের অধীনে রাখার জন্য বিজেপি ও তার হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থী মিত্রদের অপরাধগুলিকে দেখানোর কাজকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কাজে লাগাচ্ছে।

কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট) বা সি-পি-এম, সিটু, যে ছোটো ছোটো দলগুলি সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ফ্রন্টের শরিক এবং তাদের নিজস্ব ইউনিয়নগুলি - সবাই আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর জন্য প্রয়োজন যে 'জনপ্রিয় ঐক্য' তা গড়ে তোলার জন্য এই "সাধারণ ধর্মঘট"-এর প্রচার করছে।

আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করে সম্ভবত কংগ্রেসের নেতৃত্বে একটি "বিকল্প সরকার" গড়ে তোলার প্রচারের জন্য স্তালীনপন্থীরা যে আগামী সপ্তাহের ধর্মঘটকে কাজে লাগাতে চায় তা স্পষ্ট ভাবে বলা আছে সি-পি-এম-এর ইংরাজি সাপ্তাহিক মুখপত্র "পিপল্স্ ডেমোক্র্যাসি"-র ৩০শে ডিসেম্বরের সম্পাদকীয়তে। "২০১৯: সামনেই এক বড় লড়াই" নামাঙ্কিত এই সম্পাদকীয় কিছুদিন আগে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পার্টির কাছে বিজেপির পরাজয়ের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং বলেছে যে সি-পি-এম-এর নেতৃত্বাধীন কৃষকদের প্রতিরোধ আন্দোলন "বিজেপি-বিরোধী জন-অসন্তোষকে সঠিক কাজে লাগাতে পেরেছে"। এই লেখায় তারা আরও বলে যে আগামী সপ্তাহের প্রতিরোধ ধর্মঘটও যেন একই কাজ করে। পিপলস ডেমোক্র্যাসি বলে, "নতুন বছরে পা দিয়ে সব প্রচেষ্টা যেন বিজেপির বিরুদ্ধে জনগণের শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তোলার কাজে এবং মোদি সরকারকে পরাজিত করার কাজে লাগে। জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নদের ডাকা দুই দিনের সাধারণ ধর্মঘট এই লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।"

এই ধর্মঘটটিতে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে আছে ভারতীয় জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (এই-এন-টি-ইউ-সি), যারা বড় ব্যবসায়ী কংগ্রেস পার্টির ট্রেড ইউনিয়ন শাখা। এছাড়াও এই ধর্মঘটে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের প্রাদেশিক, দক্ষিণপন্থী দল ডি-এম-কে-র ট্রেড ইউনিয়ন শাখা লেবার প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্ট। ডি-এম-কে এর আগে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারে অংশগ্রহণ করেছে। এখন অবশ্য তারা কংগ্রেস পার্টির অন্যতম নিকট মিত্র।

স্তালীনপন্থীরা পরের সপ্তাহের ধর্মঘটকে ব্যবহার করতে চাইছে তাদের ক্ষয়ে যাওয়া "বামপন্থী" তকমাকে আর একটু ঝকঝকে করে তুলতে। তাদের দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ফলে গত দশকে সিপিএম এবং সিপিআই-এর নির্বাচনী সমর্থন আহত হয়েছে। যে বামফ্রন্ট ২০০৯ সালেও সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি ছিল, তাদের দখলে এখন এক ডজনের বেশী আসন নেই। বিরোধী শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের ক্ষয় করতে বুর্জোয়াদের কি ভাবে তারা সাহায্য করতে পারে তা দেখিয়ে স্তালীনপন্থীরা প্রতিষ্ঠানে তাদের হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক প্রভাব পুণরুদ্ধারের আশা করছে।

সারা বিশ্বের মত ভারতেও সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক শ্রেণীর বিরোধীতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে তামিলনাড়ুর মোটরগাড়ির শ্রমিক এবং দিল্লি ও হরিয়ানাতে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটও রয়েছে। এছাড়াও কৃষি সমস্যা ও পরিবেশ বিপর্যয় নিয়েও জনপ্রিয় বিরোধীতার তরঙ্গও দেখা গেছে। মে মাসে টুটিকোরিনে স্টারলাইটের তামা গলানোর কারখানার বিরোধীতাকারী ১৩ জন প্রতিবাদীকে পুলিশ ঠান্ডা মাথায় গুলি করে খুন করে।

এই সংগ্রামগুলির উৎস কেবলমাত্র বিজেপি সরকারের প্রতি বিরোধীতা নয়, বরং গত তিন দশক ধরে সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনা ভারতে "নতুন অর্থনৈতিক নীতি - লাগামহীন 'মুক্ত বাজার' নীতি, যা তাদের স্বাধীনতা পরবর্তী রাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী উন্নয়ন প্রকল্পের ভরাডুবি হবার পর ভারতীয় বুর্জোয়ারা অবলম্বন করেছিল।

১৯৯০-এর মধ্য ভাগে ভারতীয় কোটিপতির সংখ্যা ছিল ২ এবং অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা ১৩০, যা পৃথিবীতে চতুর্থ বৃহত্তম সংখ্যা। কিন্তু ভারতবর্ষের ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষ দিনে দুই ডলার আয়ে নিজেদের জীবন চালায়। বিদেশী লগ্নি টানার চেষ্টা করার সময় মোদি গর্ব করে বলে যে ভারতবর্ষে মজুরি চীনের মজুরির এক চতুর্থাংশের চেয়ে বেশী নয়। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, অপুষ্টির জন্য ৪৬ মিলিয়ন ভারতীয় শিশুর শারিরিক বিকাশ ও বৃদ্ধি আটকে এবং আরও ২৫ মিলিয়ন "বিনষ্ট" হয়েছে। যদিও ভারত তাদের জি-ডি-পি-র মাত্র ১.১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং মাত্র ২.৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে খরচ করে, তবু ভারতীয় বুর্জোয়াদের ক্ষমতার প্রতি প্রবল উচ্চাভিলাষের কারণে সামরিক খাতে খরচের হিসাবে ভারতবর্ষ এখন পৃথিবীতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে।

এ কথা বলা নেহাতই অপ্রয়োজনীয় যে এই সামাজিক সংকট ঘটার জন্য যে কারণগুলি প্রয়োজন তাদের অনেকগুলিই ঘটিয়েছিল কংগ্রেস পার্টি। যে ধর্মঘটগুলির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ স্তালীনপন্থী ও পুঁজিবাদী-পন্থী ইউনিয়নদের হাতে, যাদের মধ্যে কংগ্রেসের নিজস্ব আই-এন-টি-ইউ-সি-ও আছে, সেই সব ধর্মঘটগুলিকে কংগ্রেস পার্টি অপকারী বলে মনে করে না।

আই-এন-টি-ইউ-সি-র সভাপতি এবং কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ জি.সঞ্জীবা রেড্ডির মতে কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বের বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারী রাহুল গান্ধী "এই ধর্মঘটকে আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছে"। আই-এন-টি-এই-সি এবং তাদের মালিক কংগ্রেস পার্টিকে স্তালীনপন্থীরা যে রাজনৈতিক আবরণ ও সমর্থন দিচ্ছে, নির্লজ্জভাবে তা কাজে লাগিয়ে রেড্ডি ভোট ভিক্ষাও করেন: "আমরা শ্রমিকদের বলব কেন্দ্রে এমন এক প্রগতিশীল সরকার গড়তে, যারা শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করবে।"

যে হাজার হাজার শ্রমিক ও যুবরা আগামী সপ্তাহের ধর্মঘটে যোগ দেবে এবং যে সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটের সমর্থন করছে, তাদের শ্রেণী চেতনার মধ্যে অনতিক্রম্য যে বহু যোজনের ফারাক রয়েছে তা পরিস্কার। এর সহজতম উদাহরণ পাওয়া যায় এই দেখে যে এই ইউনিয়নগুই মারুতি সুজুকি শ্রমিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছে, এবং প্রবল আগ্রহ নিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে এবং ইন্ডিয়ান লেবার কনফারেন্সের (আই-এল-সি)-র সঙ্গে আবার ত্রিপাক্ষিক 'আলোচনা' শুরু করার দাবি করছে।

ধর্মঘটের দাবি বা প্রচারের কোথাও মারুতি সুজুকির ১৩ জন শ্রমিকদের মুক্ত করার কথা বলা হয়নি। অথচ ঠিকা মজুরির নীতি ও নামমাত্র মজুরিতে হাড়ভাঙা খাটুনি এবং জঘন্য কাজের পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়েছিলেন বলেই এই শ্রমিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সারা জীবনের জন্য জেলে বন্দী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, স্তালীনপন্থী সি-আই-টি-এই এবং এ-আই-টি-এই-সি-র নেতৃত্বে ইউনিয়নগুলি আই-এন-টি-ইউ-সি-কে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় তাদের চিরাচরিত জায়গা ফেরত দিতে বদ্ধপরিকর এবং তারা চায় ২০১৫-র পরে এই প্রথমবার বিজেপি সরকার আই-এল-সি-কে একটি বৈঠকে আহ্বান করুক।